ক্বিরাআতুল কুরআন বাংলা বই
ক্বিরাআতুল কুরআন বাংলা বই
ক্বিরাআতুল কুরআন হচ্ছে বাংলা ভাষায় রচিত কুরআন মাজীদ শিক্ষা বিষয়ক একটি বই যাতে মাখরাজ, সিফাত এবং তাজবীদের সমন্বয়ে কোরআন মাজীদ শেখার সহজ পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে।কুরআন মাজীদ মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সর্বশেষ আসমানী গ্রন্থ। কুরআন মাজীদ আরবি ভাষায় নাযিল করা হয়েছে। তাই কুরআন মাজীদ পড়তে হলে বা বুঝতে হলে আরবি ভাষা শিখতে হবে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,
إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ قُرْءَٰنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
"আমি একে আরবী ভাষায় কোরআন রূপে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার।"
(সূরা ইউসুফ আয়াত ০২)
কোরআন মাজীদকে সুর দিয়ে সুন্দর করে তাঁরতিল সহ তেলাওয়াত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,
وَرَتِّلِ ٱلْقُرْءَانَ تَرْتِيلًا
কোরআন আবৃত্তি করুন সুবিন্যস্ত ভাবে ও স্পষ্টভাবে। (সূরা মুজাম্মিল আয়াত ০৪)
ক্বিরাআতুল কুরআন বইয়ে আরবি মাখরাজ, সিফাত এবং তাজবীদের সমন্বয়ে সহিহ কুরআন শিক্ষার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বইয়ের সাথে ভিডিও টিউটোরিয়াল সংযুক্ত করা হয়েছে কিউআর কোড এর মাধ্যমে। কুরআন মাজীদ সুন্দর করে তেলাওয়াতের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। একজন মুসলিম হিসেবে অন্তত এতোটুকু দক্ষতা থাকতে হবে যাতে করে কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করলে অর্থের পরিবর্তন না ঘটে। কারণ মাখরাজ, সিফাত এবং তাজউইদের ভুলের কারণে কুরআন মাজিদের অর্থ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। নিচে কয়েকটি উদাহরণ উল্লেখ করছি।
আরবি ভাষায় দুটি ভিন্ন মাখরাজ এর কাছাকাছি উচ্চারণ রয়েছে যেমন হামজা (ء) এবং আইন(ع)। এ দুটির উচ্চারণ কাছাকাছি হওয়ায় অনেকেই হামজার পরিবর্তে আইন উচ্চারণ করেন অথবা আইনের পরিবর্তে হামজা উচ্চারণ করে ফেলেন। কুরআন মাজিদে একটি শব্দ রয়েছে عَلِيْمٌ অর্থ জ্ঞানী। যেমন ٌالله عَلِيم যার অর্থ আল্লাহ জ্ঞানী আবার আরেকটি শব্দ রয়েছে ألِيْمٌ যার অর্থ যন্ত্রণাদায়ক যেমন عَذَابٌ أَلِيْمٌ যার অর্থ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
আরবি ভাষায় দুই ধরনের 'লা' আছে যেমন লা( لَ) অর্থ 'জন্য' বা অবশ্যই আবার (لا) লা অর্থ 'না'। অর্থাৎ লাম এর সাথে এক আলিফ যোগ করলে তার অর্থ হয় "না" আর শুধু ل অর্থ হচ্ছে জন্য বা অবশ্যই। এখন কেউ যদি কালিমা পড়তে গিয়ে "لا اله الا الله" এখানে 'লা' এর মধ্যে টান না দেয় তাহলে ঈমান আনার পরিবর্তে সেটি দ্বারা শিরক হয়ে যাবে কারণ তখন অর্থ হয়ে যাবে "আল্লাহ ছাড়া অন্য ইলাহার জন্য" অথচ অর্থ হওয়ার কথা ছিল 'আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই'। একইভাবে সূরা বাকারার ২ নং আয়াত ذلك الكتاب لا ريب এখানে যদি 'লা' এর মধ্যে টান না দেন তাহলে এর অর্থ দাঁড়াবে "কিতাবের মধ্যে সন্দেহ আছে" অথচ অর্থ হওয়ার কথা ছিল 'এই কিতাবে কোন সন্দেহ নেই'।
আবার সূরা ইয়াসিনের ০৩ নং আয়াত انك لمن المرسلين পড়ার সময় যদি আপনি 'লা' এর মধ্যে টান দেন তাহলে আপনি রাসূলকে অস্বীকার করলেন। কারণ এ জায়গায় শুধু লাম ل ব্যবহার করা হয়েছে যার অর্থ অবশ্যই অর্থাৎ হা বাচক কিন্তু এর সাথে এক আলিফ টান যোগ করে উচ্চারণ করলে অর্থ হয়ে যাবে 'না '।
অর্থাৎ সহজ ভাষায় বললে আমি আরবি ভাষায় টানের গুরুত্ব বোঝাতে চাচ্ছি অর্থাৎ এক আলীফ টানের জন্য অর্থের পরিবর্তন হয় সে বিষয়টা বোঝাতে চাচ্ছি। টানের কম বেশি হওয়ার কারণে একবচন দ্বিবচন বা বহুবচ হয়ে যেতে পারে । আমি শুধুমাত্র একটি সংক্ষিপ্ত উদাহরণ দিচ্ছি جَنَّةٌ জান্নাতুন মানে একটি জান্নাত অপরপক্ষে جَنّٰةٌ জান্নাআতুন অর্থাৎ নুনের সাথে এক আলিফ টান যোগ করা হলে অর্থ দাঁড়ায় অনেক জান্নাত,,, বহুবচন হয়ে যাবে।
এমত অবস্থায় একজন মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কুরআন মাজীদ সহিহ শুদ্ধভাবে শিক্ষা করা এবং আরবি ভাষার মৌলিক গ্রামার আয়ত্তে আনা।
আপনি হয়তো বলতে পারেন যে আল্লাহ তো অত্যন্ত ক্ষমাশীল। যে শুদ্ধভাবে পড়তে পারে না আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন । এখন প্রশ্ন হল যার শিখার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছে করে শিখছে না তাকেও কি আল্লাহ ক্ষমা করবেন ? একজন ব্যক্তি তার দাদার বাবা কোন দাগে জায়গা পাবেন সেগুলো সেই দাগ, খতিয়ান ঘেটেগুটে অংশের জায়গা বের করতে পারে আর কোথায় এক আলিফ টান দিতে হবে সেটা শিখতে পারেনা!
এজন্যই মুহাম্মদ সাঃ এর উপর প্রথম যে ওহী নাযিল করা হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে ইক্বরা অর্থাৎ পড়ো।
মূলত জ্ঞান অর্জন না করার জন্য অনেককে জাহান্নামে যেতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা আরাফের ১৭৯ নং আয়াতে বলেন,
"আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা চিন্তা ও গবেষণা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।"
আমাদের মধ্যে অনেকেই বছরের পর বছর ধরে সলাত আদায় করতেছেন, কোরআন পড়তেছেন অথচ সলাতে যে তসবিহ বা কোরআন পাঠ করেন তার উচ্চারণ ঠিক না থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই শিরক এবং গুনাহে পরিপূর্ণ হচ্ছে আমলনামা। কাউকে শিখাতে বা শুদ্ধ করে দিতে গেলেও অনাগ্রহী দেখা যায় অর্থাৎ শিখতে চান না, বিষয়টা খুবই মর্মান্তিক ও আত্মঘাতী।
তাই সহিহ এবং শুদ্ধ করে কুরআন মাজীদ শিখুন, কুরআন মাজিদের হক আদায় করুন এবং আমলনামায় নেকির পরিমাণ বৃদ্ধি করুন।ক্বিরাআতুল কুরআন বই এবং প্লে লিস্ট এর মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে কোরআন মাজিদ শিক্ষার ভিডিও টিউটোরিয়াল গুলো উপস্থাপন করা হবে ইং শা আল্লাহ।
Uzzal Hossain

কোন মন্তব্য নেই